আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে, ‘মব জাস্টিস’ রোধে আইনের শাসন জোরদারের আহ্বান
কে এস ইসলাম :
ঢাকা: দেশে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বিচারব্যবস্থা, মানবাধিকার এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজব, যাচাইহীন তথ্য এবং ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে নিরীহ মানুষ গণপিটুনির শিকার হওয়ার ঘটনা বাড়ছে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিশ্লেষণধর্মী লেখায় বলা হয়েছে, ধর্ষণসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধের অভিযোগকে কেন্দ্র করে অনেক ক্ষেত্রে সত্যতা যাচাইয়ের আগেই জনতা আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে। এতে নিরপরাধ মানুষও মারাত্মক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন, এমনকি কেউ কেউ প্রাণ হারাচ্ছেন বা স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করছেন।
বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব দ্রুত ছড়িয়ে পড়া, বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা এবং অপরাধের দ্রুত বিচার না হওয়ার হতাশা থেকে এক ধরনের ‘মব জাস্টিস’ বা জনতার বিচার সংস্কৃতি তৈরি হচ্ছে। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় এটিকে ‘কালেক্টিভ হিস্টিরিয়া’ বা সম্মিলিত উন্মাদনার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের সংবিধান এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী আদালতে দোষী প্রমাণিত হওয়ার আগে প্রত্যেক ব্যক্তি নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হন। কোনো ব্যক্তিকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে গণপিটুনি দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কাউকে হত্যা বা গুরুতর আহত করলে তা প্রচলিত আইনে হত্যাকাণ্ড বা অন্যান্য গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, মব জাস্টিসের এই সংস্কৃতি চলতে থাকলে প্রকৃত অপরাধীরাও অনেক সময় আড়ালে থেকে যাওয়ার সুযোগ পায়। একই সঙ্গে মিথ্যা অভিযোগের কারণে প্রকৃত ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথও কঠিন হয়ে যেতে পারে।
তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ, গুজব প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, বিচারপ্রক্রিয়ার গতি বাড়ানো এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও সভ্য সমাজ গঠনে মব জাস্টিসের সংস্কৃতি বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।