বেইলি রোডে উন্নয়ন কাজে অনিয়ম: ঠিকাদারকে শোকজ, গাইড ওয়াল ভেঙে পুনর্নির্মাণের নির্দেশ ডিএসসিসির
এম আকবর হোসেন :
রাজধানীর বেইলি রোডে চলমান ফুটপাত ও ড্রেনেজ উন্নয়ন প্রকল্পে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)। একই সঙ্গে অনিয়ম করে নির্মিত ৯ মিটার গাইড ওয়াল ভেঙে নতুন করে নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ডিএসসিসি সূত্র জানায়, অঞ্চল-১-এর ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের অফিসার্স ক্লাব মোড় থেকে হেয়ার রোড পর্যন্ত উন্নয়ন কাজের অংশ হিসেবে নির্মাণাধীন গাইড ওয়ালে নির্ধারিত সিডিউল ও স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়নি। এছাড়া দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী বা কার্য-সহকারীর উপস্থিতি ছাড়াই রাতের আঁধারে অননুমোদিতভাবে ঢালাই কাজ পরিচালনার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গত রোববার (২ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম আকস্মিকভাবে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে এসব অনিয়ম শনাক্ত করেন। পরিদর্শনের পরই সংশ্লিষ্ট কাজ বন্ধ করে অনিয়মে নির্মিত অংশ ভেঙে পুনর্নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
ডিএসসিসির ভাষ্য অনুযায়ী, চুক্তি দলিলের গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত শর্ত (GCC Section-3) অনুসারে প্রতিটি উন্নয়নকাজে নির্ধারিত মানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার বাধ্যতামূলক। এছাড়া GCC Clause-27 (Rejection of Works) অনুযায়ী স্পেসিফিকেশন বহির্ভূত ও অননুমোদিত কাজ বাতিল করার বিধান রয়েছে। সেই বিধান অনুসারেই সংশ্লিষ্ট কাজ প্রত্যাখ্যান করে পুনর্নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা (পিপিআর) এবং চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান DIC & AW (JV)-কে তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) অঞ্চল-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম জয় স্বাক্ষরিত এক স্মারকে এ শোকজ নোটিশ জারি করা হয়।
ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, নগরীর উন্নয়নকাজে কোনো ধরনের অনিয়ম, নিম্নমানের নির্মাণ কিংবা দুর্নীতির সঙ্গে আপস করা হবে না। উন্নয়ন প্রকল্পে গুণগত মান নিশ্চিত করতে ডিএসসিসি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের আকস্মিক নৈশ পরিদর্শন অব্যাহত থাকবে।
ডিএসসিসির এই পদক্ষেপকে উন্নয়ন প্রকল্পে জবাবদিহিতা ও নির্মাণকাজের মান নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নিয়মবহির্ভূত কাজের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ ভবিষ্যতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আরও বেশি দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।