স্পিকারের বক্তব্যে জল্পনা অব্যাহত, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ বিষয়ে নিশ্চিত নন হাফিজ উদ্দিন
ইসতিয়াক আহম্মেদ :
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলমান আলোচনা ও জল্পনার মধ্যে দেশে ফিরেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তবে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে তিনি কোনো নিশ্চিত তথ্য জানেন না বলে জানিয়েছেন।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুরে থাইল্যান্ড থেকে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্পিকার বলেন, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করবেন কি না, সে বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই। তিনি জানান, চিকিৎসাজনিত মেডিকেল চেকআপ শেষ হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশে ফিরেছেন।
এদিকে, সংসদ সচিবালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, স্পিকারের ২৬ জুলাই দেশে ফেরার কথা থাকলেও উচ্চপর্যায়ের অনুরোধে সফর সংক্ষিপ্ত করে শুক্রবারই তিনি দেশে ফিরে আসেন। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি, তবে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে চলমান গুঞ্জনের সঙ্গে বিষয়টির সম্পর্ক থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে।
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিধান সুস্পষ্ট। ৫০(৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরিত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। আর ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে অথবা তিনি দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
এছাড়া সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার বিধান রয়েছে।
অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতির পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি আগামী শনি বা রোববার পদত্যাগ করতে পারেন। যদিও এ বিষয়ে বঙ্গভবনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো. সালাহউদ্দিন আহমদও এ প্রসঙ্গে বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে যে আলোচনা চলছে, সেটি এখনো গুঞ্জনের পর্যায়েই রয়েছে। তিনি পদত্যাগ করবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত একান্তই রাষ্ট্রপতির। সংবিধান অনুযায়ী পদত্যাগপত্র গ্রহণ ও পরবর্তী সাংবিধানিক প্রক্রিয়া স্পিকারের মাধ্যমেই সম্পন্ন হবে।
এদিকে, বঙ্গভবন-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, রাষ্ট্রপতি তার ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের কাছে শিগগিরই বঙ্গভবন ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। পদত্যাগের পর তিনি কিছুদিন বিশ্রামে থাকবেন এবং প্রয়োজন হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশেও যেতে পারেন বলে জানা গেছে।
তবে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসায় বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জল্পনা-কল্পনা অব্যাহত রয়েছে।