রাজউকের জোন ৬/১-এ নকশা বহির্ভূত ভবনের দৌরাত্ম্য_ অভিযোগের পরও থামছে না নির্মাণকাজ
লিখিত অভিযোগের পরেও ইমারত পরিদর্শক সুমনের ইশারায় চলছে ভবন নির্মাণ, রাজউকের জোন ৬/১-এ প্রশ্নবিদ্ধ নজরদারি।
আকবর হোসেন
রাজধানীর পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকা রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) আবারও প্রশ্নের মুখে। রাজউকের জোন ৬/১-এর বিভিন্ন এলাকায় অনুমোদিত নকশা বহির্ভূত ভবন নির্মাণের অভিযোগ বাড়লেও, সংশ্লিষ্টদের কার্যকর তদারকি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও একাধিক সূত্রের অভিযোগ, জোন ৬/১-এর বিভিন্ন এলাকায় অনুমোদিত নকশা অমান্য করে ভবনের অতিরিক্ত তলা নির্মাণ, নকশা পরিবর্তন এবং কাঠামোগত ব্যত্যয় ঘটিয়েও নির্মাণকাজ অব্যাহত রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব অনিয়ম অনেক ক্ষেত্রেই প্রকাশ্যেই ঘটছে, কিন্তু দৃশ্যমান কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে না।
লসবচেয়ে আলোচিত অভিযোগগুলোর একটি তিতাস রোডের নবীনবাগ এলাকার একটি ভবনকে ঘিরে। অভিযোগ রয়েছে, ভবনটির বিরুদ্ধে রাজউকে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার পরও নির্মাণকাজ বন্ধ হয়নি। স্থানীয়দের ভাষ্য, অভিযোগের পরও ভবন মালিক নির্ধারিত নিয়মের তোয়াক্কা না করে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। অভিযোগ আছে রাজউককে ম্যানেজ করে এভাবেই গড়ে উঠছে অপরিকল্পিত নগরায়ন।
এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ইমারত পরিদর্শক সুমন আহম্মেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেননি বলে অভিযোগকারীরা জানান। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে ইমারত পরিদর্শক সুমন কোন সদুত্তর দিতে পারেনি।
নগর পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, অনুমোদিত নকশা অমান্য করে ভবন নির্মাণ শুধু আইনের লঙ্ঘন নয়; এটি অগ্নিকাণ্ড, ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন দুর্যোগে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সচেতন নাগরিকরা বলছেন, অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত তদন্ত, নির্মাণকাজের বাস্তব অবস্থা যাচাই এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা রাজউকের দায়িত্ব। অন্যথায় অবৈধ নির্মাণের প্রবণতা আরও বাড়তে পারে এবং নগর উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রতি জনআস্থা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ ঘটনায় রাজউকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, সংশ্লিষ্ট ভবনসহ জোন ৬/১-এর বিতর্কিত নির্মাণগুলো দ্রুত পরিদর্শন করে প্রকৃত অবস্থা যাচাই করা হোক এবং অনিয়মের প্রমাণ মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।ু