এমআরটি লাইন-৫: ৩২ মিনিটে পাড়ি দেওয়া যাবে ভাটারা থেকে হেমায়েতপুর
ইসতিয়াক আহম্মেদ :
রাজধানীর যানজট নিরসনে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে এমআরটি লাইন-৫ (নর্দার্ন রুট) প্রকল্পের মাধ্যমে। ভাটারা থেকে সাভারের হেমায়েতপুর পর্যন্ত বিস্তৃত এই মেট্রো রেল সংযোগের নির্মাণকাজ বর্তমানে পুরোদমে চলছে। ঢাকার পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তকে যুক্ত করতে যাওয়া এটিই প্রথম মেট্রো রুট হতে যাচ্ছে।
২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই বিশাল প্রকল্পের অবকাঠামো নির্মাণকে মোট ১০টি ভাগে বা প্যাকেজে বিভক্ত করা হয়েছে। মোট পথের ১৩.৫০ কিলোমিটার মাটির নিচ দিয়ে যাবে এবং বাকি অংশ হবে উড়ালপথ। প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি তুলে ধরে জানানো হয়েছে, হেমায়েতপুর ডিপোর জমি উন্নয়নের কাজ ইতিমধ্যে ৭৮ শতাংশ শেষ হয়েছে। এই রুটে যাত্রীদের জন্য মোট ১৪টি স্টেশন তৈরি করা হবে, যার মধ্যে ৯টি হবে আন্ডারগ্রাউন্ড বা ভূগর্ভস্থ এবং ৫টি হবে এলিভেটেড বা ওপর দিয়ে।
যেসব এলাকায় থাকবে স্টেশন:
ভূগর্ভস্থ স্টেশনগুলো মূলত গাবতলী, মিরপুর-১, ১০ ও ১৪, দারুসসালাম, কচুক্ষেত, বনানী, গুলশান-২ এবং নতুনবাজার এলাকায় নির্মিত হচ্ছে। অন্যদিকে, হেমায়েতপুর, বালিয়ারপুর, বিলামালিয়া, আমিনবাজার ও ভাটারা অংশে ট্রেন চলবে ওপর দিয়ে এবং এসব জায়গায় স্টেশনগুলোও হবে এলিভেটেড।
বিনিয়োগ ও ব্যয়:
এই মেগাস্কিমটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪১,২৩৮.৫৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে সিংহভাগ অর্থ দিচ্ছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা), যার পরিমাণ ২৯,১১৭.০৫ কোটি টাকা। অবশিষ্ট অর্থায়ন করছে বাংলাদেশ সরকার।
যাত্রী সুবিধা ও সময় সাশ্রয়:
বর্তমানে ভাটারা থেকে হেমায়েতপুর পৌঁছাতে যেখানে কয়েক ঘণ্টা অতিবাহিত হয়, মেট্রোরেল চালু হলে সেই দূরত্ব পাড়ি দিতে সময় লাগবে মাত্র ৩২ মিনিট। প্রতিটি ট্রেনে প্রায় ৩,০৮৮ জন যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন। কর্মকর্তারা আশা করছেন, প্রতি ঘণ্টায় উভয় দিকে প্রায় ৫৩,২০০ যাত্রী পরিবহন করা যাবে এবং দৈনিক ১২ লাখের বেশি মানুষ এই সুবিধা পাবেন।
প্রকল্পের পরিচালক আব্দুল মতিন চৌধুরী পরিবেশ ও মান নিশ্চিত করার বিষয়ে জোর দিয়েছেন। তিনি জানান, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে শব্দ ও কম্পন দূষণ কমানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে উচ্চ শব্দ নিয়ন্ত্রণে সাউন্ড ব্যারিয়ার এবং উন্নত মানের রেলওয়ে ট্র্যাক ব্যবহার করা হবে।