আশ্রাফপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন: চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় এম. আবু ফয়েজ
কচুয়া (চাঁদপুর) প্রতিনিধি:
আসন্ন ১২ নম্বর আশ্রাফপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এম. আবু ফয়েজকে নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা বৃদ্ধি পেয়েছে। শিক্ষা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে পরিচিত মুখ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর সমর্থকরা।
জানা যায়, এম. আবু ফয়েজ ১২ নম্বর আশ্রাফপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চাঁঙ্গিনী গ্রামের একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সর্বজন শ্রদ্ধেয় কৃষক ও ব্যবসায়ী মরহুম আব্দুল মতিনের সাত সন্তানের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ।
শিক্ষাজীবনে তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পাশাপাশি সরকারি মাদরাসা-ই-আলিয়া, ঢাকা থেকে ইসলামিক স্টাডিজ ও হাদিস বিভাগে ফাযিল (বিএ) এবং কামিল (এমএ) ডিগ্রি লাভ করেন। এছাড়া সেন্ট্রাল ল’ কলেজ, ঢাকা থেকে এলএলবি এবং ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি ১৯৯৬ সালে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। পরবর্তীতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের ১ নম্বর সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইন ছাত্র ফোরামের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ এবং কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি কচুয়া উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির টিম লিডার হিসেবে চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনের নির্বাচনী কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত রয়েছেন। তিনি চাঁঙ্গিনী দক্ষিণপাড়ার বাইতুর নূর জামে মসজিদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বাইতুর রাসূল (সা.) ইসলামিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসার সাধারণ সম্পাদক, ড্রিমফিল ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা এবং আশ্রাফপুর আহসানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সমর্থকদের দাবি, অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখার পাশাপাশি তিনি একাধিকবার হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এসব কারণে স্থানীয় জনগণের একটি বড় অংশের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।
নির্বাচনী প্রচারণায় এম. আবু ফয়েজ উন্নয়ন, সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে সমতাভিত্তিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে তাঁর বড় ভাই অ্যাডভোকেট কাজী মাওলানা মোহাম্মদ আবুল হোসেন বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এ বিষয়ে এম. আবু ফয়েজ বলেন, “জনগণ যদি আমাকে চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করেন, তাহলে ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন, সেবার মানোন্নয়ন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করব। আমি সকলের দোয়া, সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করছি।”
উল্লেখ্য, আশ্রাফপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। নির্বাচন সামনে রেখে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও জনমত গঠনের কার্যক্রমও ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।